কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আগামী ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ওই দুই দিনে কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষের সমাগম ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধের নোটিশ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুবি শিক্ষার্থীরা।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা নন্দনপুর ডিআরএস-এর এইচপি ডিআরএস ও আইপিডিআরএস অংশ বন্ধ রাখা হবে। এর ফলে কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় ওই সময় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের এই সিদ্ধান্তকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে করছেন কুবি শিক্ষার্থীরা। তাদের আশঙ্কা, ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য আবাসন, খাবারসহ নানাবিধ ভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে মেস, হোটেল ও আবাসিক এলাকায় গ্যাস না থাকলে রান্না ও দৈনন্দিন কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেন, “ভর্তি পরীক্ষার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে খাবারসংক্রান্ত বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক আসবেন। তারা যদি এখানে এসে খাবারের সংকটে পড়েন, তাহলে তা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও লজ্জাজনক পরিস্থিতি তৈরি করবে।”
ফার্মেসি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, “ভর্তি পরীক্ষার সময় কুমিল্লায় প্রায় ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী আসবেন, সঙ্গে থাকবেন তাদের অভিভাবকরাও। এমন দিনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে তা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়াবে এবং কুমিল্লা সম্পর্কে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে ভুল ধারণা তৈরি করবে। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত পরিবর্তন করা উচিত।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “দেশের বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক আসবেন। ওই সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে সবাইকে খাবার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।”
এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলে আলম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আমাকে চিঠি দিয়েছে। তবে এভাবে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিষয়টি আগে থেকেই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে, মাইকিং করা হয়েছে এবং সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন কাজ বন্ধ করলে সরকারের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হবে। তারপরও যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি গ্যাস সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকবে না।”