বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেড় দশকের বেশি সময়ের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন ফাতেমা বেগম। বাসভবন, কার্যালয়, রাজপথ, হাসপাতাল, কারাগার কিংবা বিদেশ—সব জায়গায় খালেদা জিয়ার পাশে থেকেছেন তিনি, তবে সব সময়ই আড়ালেই থেকে গেছেন। এই নীরব উপস্থিতির মানুষটিই ফাতেমা বেগম।
২০১০ সাল থেকে খালেদা জিয়ার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ফাতেমা বেগম। গৃহকর্মী হিসেবে তার যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হন।
বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার প্রতি ফাতেমা বেগমের মমত্ববোধ ছিল গভীর। সব সময় পাশে থাকা, প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মনে করিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজে তিনি দায়িত্ব পালন করতেন।
ফাতেমা বেগমের গ্রামের বাড়ি ভোলা। ২০১০ সালে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী হিসেবে তার কাজ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি হয়ে ওঠেন খালেদা জিয়ার সার্বক্ষণিক সঙ্গী।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হলে আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহপরিচারিকা হিসেবে ফাতেমা বেগমকে তার সঙ্গে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার ছয় দিনের মাথায় ফাতেমাও সেখানে যান এবং প্রায় ২৫ মাস স্বেচ্ছায় খালেদা জিয়ার সঙ্গেই কারাগারে অবস্থান করেন।
এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটকালে ফাতেমাকে দেখা গেছে খালেদা জিয়ার নীরব ছায়াসঙ্গী হিসেবে। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের প্রতিবাদে আন্দোলনের সময় গুলশানে কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখলে পতাকা হাতে তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ফাতেমা। ২০১৫ সালের শুরুতে টানা ৯২ দিন গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থানকালেও তিনি ছিলেন সার্বক্ষণিক সঙ্গী।
স্বল্পভাষী ফাতেমা বেগমের বয়স বর্তমানে প্রায় ৪০ বছর। তিনি এক সন্তানের জননী। মা-বাবার সঙ্গে রাজধানীর শাহজাহানপুরে বসবাস করতেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতার মাধ্যমে মূলত ‘ফিরোজা’য় তার কাজ শুরু হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফাতেমা বেগমের এই নিরবচ্ছিন্ন সঙ্গ শুধু একটি চাকরির সম্পর্ক নয়; বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক মানবিক অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হবে।