দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, প্রবীণ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তা এবং ছায়ানটে ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল ১৯। শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এসব সহিংসতা ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আর্টিকেল ১৯-এর মতে, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর এসব হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দায়মুক্তির সংস্কৃতির ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। সংস্থাটি বলেছে, অপরাধীদের বিচার না হলে হামলাকারীরা আরও উৎসাহ পায় এবং নতুন করে সহিংসতায় জড়ানোর সাহস সঞ্চয় করে। এর ফলে ভিন্নমত দমনের একটি বিপজ্জনক ধারা সমাজে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্বাধীন গণমাধ্যম এবং মুক্ত মতপ্রকাশের পরিবেশ অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা হামলাকারীদের আরও সাহসী করে তুলছে। এখনই যদি এসব সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্বচ্ছ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সাংবাদিক ও নাগরিকরা কেউই নির্ভয়ে কথা বলতে পারবেন না। এমন ভয়ের পরিবেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সংস্থাটি মনে করে, দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক ছায়ানটে ভাঙচুর এবং শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর অশনিসংকেত। সরকারের নিষ্ক্রিয়তা এই সংঘাতময় পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পথ সংকুচিত করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আর্টিকেল ১৯ বলেছে, দায়মুক্তির সংকট আরও গভীর হওয়ার আগেই সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হওয়ার দায় রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।