দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের উপকণ্ঠে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ রোববার পুলিশ এই তথ্য জানিয়েছে। চলতি ডিসেম্বর মাসে দেশটিতে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের গোলাগুলির ঘটনা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ প্রথমে নিহতের সংখ্যা ১০ জানালেও পরে তা সংশোধন করে ৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। জোহানেসবার্গ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বেকার্সডাল এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। হামলার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা রাস্তায় সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। হামলাকারীরা দুটি গাড়িতে করে এসে প্রথমে একটি অনানুষ্ঠানিক পানশালায় থাকা লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এরপর পালানোর সময় পথেও যাকে সামনে পেয়েছে, তাকেই লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তারা।
প্রাদেশিক পুলিশের কমিশনার মেজর জেনারেল ফ্রেড কেকানা জানান, নিহতদের মধ্যে একটি অনলাইন গাড়ি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের একজন চালকও রয়েছেন। তিনি ঘটনার সময় পানশালার বাইরে অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বড় কয়েকটি স্বর্ণখনির কাছাকাছি অবস্থিত দরিদ্র এলাকা বেকার্সডালে একটি অনানুষ্ঠানিক পানশালার পাশে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে সংগঠিত অপরাধ ও দুর্নীতির গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গ্যাং দ্বন্দ্ব এবং অনানুষ্ঠানিক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বাড়ছে, যার ফলে দেশটিতে গোলাগুলি প্রায় নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের হারের তালিকায় ঠেলে দিয়েছে।
এর আগে, গত ৬ ডিসেম্বর রাজধানী প্রিটোরিয়ার কাছে একটি হোস্টেলে বন্দুকধারীদের হামলায় তিন বছরের এক শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়। পুলিশ জানায়, সেখানে অবৈধভাবে মদ বিক্রি করা হতো। সে সময় পুলিশ জানায়, একদল লোক মদ্যপান করছিল, এমন অবস্থায় তিনজন অজ্ঞাত বন্দুকধারী হোস্টেলে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ওই ঘটনায় মোট ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হন, যাদের মধ্যে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জন মারা যান।