আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এনপিএ তাদের পাঁচটি মূলনীতি ঘোষণা করে। এগুলো হলো: গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষা। ‘জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে অধিকারভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন প্ল্যাটফর্মটির নেতারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, 'দেশের বিদ্যমান শাসনকেন্দ্রিক ক্ষমতা কাঠামো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের পরিবর্তে শাসকগোষ্ঠীর অনুগত করে তুলেছে। ফলে জনগণের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই ক্ষমতা চর্চা ও সম্পদ আহরণের অংশে পরিণত হয়েছে। এই বাস্তবতা বদলাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা ও সেবাভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করবে এনপিএ।'
এনপিএর ঘোষণায় আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পূর্ণ ও কার্যকর পৃথকীকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও কেন্দ্রীয় প্রভাবমুক্ত শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠনের দাবি জানানো হয়।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লুটপাট, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানায় সংগঠনটি। একটি স্বনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ কৃষিঋণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ভর্তুকি এবং শিল্পশ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক মজুরি কাঠামো প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈষম্য হ্রাস ও রাষ্ট্রীয় আয় বৃদ্ধিতে প্রগতিশীল করব্যবস্থা চালুর কথা জানানো হয়।
পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান নেয় এনপিএ। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্পের ফলে প্রাণ-প্রকৃতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন নেতারা। নদী দখল, বন উজাড়, দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে এনপিএ জানায়, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা, জানমালের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দেয় নতুন এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।
আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এনপিএর নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতি দেখা যায়। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উল্লেখযোগ্য জনসমাগম সৃষ্টি হয়।