গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ১নং ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের শৌচাগারে ব্যবহৃত জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পাওয়া গেছে। সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন অশোভন ও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
২৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের শৌচাগারে প্রবেশ করলে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় এসব সামগ্রী।
ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা নতুন কিছু নয়। প্রায়ই এই শৌচাগারে এ ধরনের অনৈতিক ব্যবহারের চিহ্ন দেখা যায়। কয়েকবার দফাদারকে জানিয়েছি, কোনো ব্যবস্থা নেননি। আগের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ছবিসহ জানালেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। ইউনিয়ন পরিষদের মতো প্রতিষ্ঠানে এমন দৃশ্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
এদিকে বর্তমান প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তিনি উল্টো দাবি করেন, “শৌচাগার দেখভালের দায়িত্ব আমার নয়। সেখানে কী হচ্ছে, তা জানার বিষয়ও না।”
তার এই মন্তব্যে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যেখানে মানুষ সেবা নিতে আসে, সেই প্রতিষ্ঠানের শৌচাগারে এ ধরনের সামগ্রী পাওয়া চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার প্রমাণ।
“ইউনিয়ন পরিষদ কি আর নিরাপদ জায়গা নেই?”—এমন প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ।
তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অশোভনতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটি সবার জন্য উন্মুক্ত শৌচাগার। এখানে কে কী করছে তা দেখার মতো কেউ নেই। তবে আমি একজন গ্রাম পুলিশকে পাহারায় রেখেছি। যেই এই কাজটি করে থাকুক না কেন, সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কালিয়াকৈর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, “এসব বিষয়ে তদন্ত ছাড়া কিছু বলা যায় না। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”