যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান আদৌ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না—এ নিয়ে কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদী। এর মধ্যেই ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি একটি মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেন।
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাম্পোলি জানান, তিনি ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন—ইরান অংশ নিতে না পারলে বিকল্প হিসেবে ইতালিকে বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি এটিকে নিজের ‘স্বপ্ন’ বলেও উল্লেখ করেন এবং চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতালির অংশগ্রহণ যুক্তিযুক্ত হতে পারে বলে মত দেন।
তবে ইতালির ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি একেবারেই গ্রহণ করেননি। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি স্পষ্টভাবে জানান, '২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালির পুনরায় যোগ্যতা অর্জনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এটি যেমন অসম্ভব, তেমনি অনুপযুক্ত। বিশ্বকাপে খেলতে হলে যোগ্যতা অর্জন করতে হয় মাঠের খেলায়।'
ইতালির অলিম্পিক কমিটির সভাপতি লুচিয়ানো বুয়োনফিগ্লিওও একই সুরে বলেন, 'বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে যোগ্যতা অর্জন করেই যেতে হয়।'
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফুটবলারদের প্রবেশাধিকার দেবে কি না—এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প প্রথমে হালকা সুরে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি এখনো ভাবেননি। পরে তিনি বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিকে ঠেলে দেন।
রুবিও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু বলেনি যে ইরান আসতে পারবে না। সমস্যা ইরানকে নিয়ে, তাদের খেলোয়াড়দের নয়।”
রোমে অবস্থিত ইরান দূতাবাস এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা লিখেছে, “ফুটবল জনগণের খেলা, রাজনীতিবিদদের নয়। ইতালি তাদের যোগ্যতা মাঠে প্রমাণ করেছে, কোনো রাজনৈতিক কৌশলে নয়।” একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের এমন চিন্তাভাবনাকে ‘নৈতিক দেউলিয়াত্বের’ প্রমাণ বলেও মন্তব্য করে।
উল্লেখ্য, বাছাইপর্বে ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে, যেখানে ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন, যার যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে।