ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড কিংবা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। একই সঙ্গে ইরানে সম্ভাব্য কোনো হামলায় লজিস্টিক সহায়তাও না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই সবচেয়ে কার্যকর পথ। সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয় বিবৃতিতে।
উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্রবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়, যা চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ব্যাপক আকার ধারণ করে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অন্তত ছয় হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ধর্মীয় নেতৃত্ব নজিরবিহীন এই বিক্ষোভ দমনের পরও টিকে রয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধিতাকারীদের অনেকেই এখনো পরিবর্তনের সম্ভাব্য পথ হিসেবে বাইরের হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে জোর দিয়ে বলেছেন, সেটি এখনো একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় আছে। এদিকে আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছেন, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা।
এর আগে গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি মার্কিন নৌবহর উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর ইরানের পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।