বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করে বলেন, 'হরমুজ প্রণালিতে পুলিশ হতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এটি কি তাদের কাজ? একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর জন্য কি এটাই উপযুক্ত ভূমিকা?'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় নৌ-অবরোধ জোরদার করলে তারই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রেজাই এই মন্তব্য করেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তিনি আরও দাবি করেন, অবরোধ কার্যকর করতে নজরদারিতে থাকা মার্কিন জাহাজগুলো ইরানের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
মোহসিন রেজাই ইরানের সামরিক অঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি দীর্ঘদিন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন (১৯৮১–১৯৯৭)। সম্প্রতি অবসর ভেঙে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার কথা বললেও, ইরান একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রেজাইয়ের এ ধরনের কঠোর বক্তব্য অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।