প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ইতোমধ্যে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী নৌ-অবরোধ কার্যকর করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে দেশটির অর্থনীতি ও তেল রপ্তানিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা যায়।
ওয়াশিংটনের ধারণা, সরাসরি যুদ্ধের তুলনায় অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে ইরানের ওপর আরোপিত শর্ত থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের মতে, সামরিক অভিযানের তুলনায় এই কৌশল কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদে ইরানের জ্বালানি খাতকে দুর্বল করে দিতে সক্ষম। ইরান বড় ধরনের কোনো ছাড় না দেওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও কম।
অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শর্তের প্রেক্ষিতে সংশোধিত প্রস্তাব দেওয়ার আগে তাদের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আরও আলোচনা প্রয়োজন। তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের অনমনীয় অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে তিনি দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নন; বরং ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ চাপ বজায় রাখাই তার মূল লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবাহিত হওয়ায়, এ অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের দামে অস্থিরতা বাড়তে পারে।