ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অভিযুক্তরা ভারতে পালিয়ে গেছে এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের মধ্যে দুজনকে মেঘালয় পুলিশ আটক করেছে।
রোববার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী ফয়সাল করিম দাউদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর শেখের সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এটি একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, মূল দুই আসামি ফয়সাল করিম ওরফে মাসুদ ওরফে রাহুল এবং মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ ভারতে পালিয়ে গেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরে পাচারে সহায়তার অভিযোগে মেঘালয় পুলিশ সেখানে দুজনকে আটক করেছে।
এস এন নজরুল ইসলাম জানান, মেঘালয় পুলিশ ভারতের নাগরিক পুর্তি ও সামী নামের দুজনকে আটক করেছে। তিনি বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার পর ফয়সাল ও আলমগীর শেখ ঢাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আমিনবাজার যান। সেখান থেকে গাড়িতে করে কালামপুরে পৌঁছান। এরপর আরেকটি গাড়িতে করে তারা ময়মনসিংহ সীমান্তে যান। সেখানে ফিলিপ স্নাল ও সঞ্জয় নামে দুই ব্যক্তি তাদের গ্রহণ করেন, যারা অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সঙ্গে জড়িত। পরে ফিলিপ তাদের ভারতের মেঘালয় রাজ্যে নিয়ে যান।
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ফিলিপ ফয়সাল ও আলমগীরকে ভারতের তুরা এলাকায় নিয়ে গিয়ে ভারতীয় নাগরিক পুর্তির কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর সামী নামের এক ব্যক্তির গাড়িতে করে তারা সেখান থেকে অন্যত্র পালিয়ে যান।
একই সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারাই জড়িত থাকতে পারে।