ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, হাদিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হামলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত, পক্ষপাতহীন, গভীর ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ভলকার তুর্ক আরও বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষার স্বার্থে এ ধরনের সহিংস ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তাতে কিছু ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এমন পরিস্থিতিতে অস্থিরতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ৩২ বছর বয়সী শরিফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের একজন সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
গত শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, গুলিটি তাঁর মাথার ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়, তবে গুলির একটি অংশ তখনো তাঁর মস্তিষ্কে রয়ে যায়।
পরিবারের সিদ্ধান্তে পরবর্তী সময়ে তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় হাদির মরদেহ বহনকারী বিমানটি সন্ধ্যা ৫টা ৪৯ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, মরদেহটি বিমানবন্দর থেকে হিমাগারের উদ্দেশে নেওয়া হয়েছে। সেখানে মরদেহ রেখে সংগঠনের কর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নেবেন।
ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, পরিবারের দাবির ভিত্তিতে শহীদ ওসমান হাদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবারের পরিবর্তে আগামীকাল শনিবার মিছিলসহ হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে। জানাজা শেষে তাঁকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।