ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু ও বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমাকে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশ তিন আসামিকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) একই আদালত এই তিন আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিটি তাঁর মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
পরদিন ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শহীদ হাদির মরদেহ সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে ফ্লাইটটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। পরে বিশেষ নিরাপত্তায় মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেওয়া হয় এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।