ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপ-কমিটির সাবেক সদস্য প্রফেসর এ আর খান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর প্রার্থিতা ঘিরে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, এ আর খান অনেকটাই নীরবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করেছেন ময়মনসিংহের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এর আগেও তিনি দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন।
এ আর খান নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের আচারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগ’ নামে একটি সংগঠন গঠন করে এর আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও দল থেকে মনোনয়ন পান সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন।
২০১৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি।
এরপর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এফডি) নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এ আর খান এবং বর্তমানে তিনি দলটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে দলটি এখনো নিবন্ধন পায়নি।
বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগের নান্দাইল উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর মুঠোফোনে বলেন, এ আর খান ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে ২০১৮ সালের পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর রাজনৈতিক যোগাযোগ নেই বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ আর খান বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন এবং দলীয় মনোনয়নও চেয়েছিলেন। পরে নিজ উদ্যোগে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করলেও তা নিবন্ধন পায়নি, তাই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে যদি তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়, সে ক্ষেত্রে তাঁর করার কিছু থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।