নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের প্রচার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন, তবে কোনোভাবেই পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচার চালাতে পারবেন না।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোট নিয়ে কমিশনের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন জনগণকে গণভোটে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করছে। তবে যাঁরা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন, তাঁরা আইনগতভাবে কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করতে পারবেন না। তাঁর ভাষায়, কোনো কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নিরপেক্ষ থাকেন এবং তাঁর জানা মতে কোনো রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো পক্ষের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন না।
সরকার ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মন্তব্য করতে তিনি রাজি নন।
নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে কমিশন দেখতে পাচ্ছে, অতীতের অনেক নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত ভালো রয়েছে।
জামায়াত ও এনসিপির উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দুটি দলের অভিযোগ মনোযোগসহকারে শোনা হয়েছে এবং সেগুলোর সমাধানে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একটি পক্ষ থেকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন মনে করে এ ধরনের আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই। তাঁর মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতি ও বিশ্ব দেখবে একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ৮ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ১২৮টি আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ১৪৪টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মোট ৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।