গাজার বিভিন্ন এলাকায় শনিবার চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়টি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার হাসপাতালগুলো। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিকে অন্যতম ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানান, ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক স্থানে আঘাত হানে। এর মধ্যে গাজা শহরের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট এবং খান ইউনিসের একটি তাঁবু শিবির রয়েছে।
এ ছাড়া মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী খান ইউনিসে একটি ভবন খালি করার নির্দেশ দেয় বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান।
এর আগে শনিবার সকালে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, ইসরায়েলি বাহিনী খান ইউনিস ও গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলে গোলাবর্ষণ করেছে।
এই হামলাগুলো এমন এক সময় ঘটল, যখন রোববার গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহে মিসরের সঙ্গে সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালুর কথা ছিল।
গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতাল জানায়, শনিবার সকালে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলায় তিন শিশু নিহত হয়। এ ঘটনায় তাদের খালা ও দাদিও প্রাণ হারান। তবে শিশুদের মা বেঁচে গেছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল জানায়, একটি তাঁবু শিবিরে হামলার ফলে আগুন ধরে যায়। এতে এক বাবা, তার তিন সন্তান এবং তিন নাতি-নাতনিসহ মোট সাতজন নিহত হন।
এদিকে, একটি পুলিশ স্টেশনে চালানো হামলায় অন্তত ১১ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন নারী পুলিশ সদস্য ছিলেন। ওই হামলায় স্টেশনে আটক থাকা বন্দিরাও নিহত হন।
গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৫০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক মানুষ। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৪১২ জন। সূত্র: মিডিলইস্ট আই