লক্ষ্মীপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রচারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার এক এনসিপি নেতাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অপর এক আসামিকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হক এ নির্দেশ দেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য ফেসবুকে প্রচার করেন আনোয়ার। তার ফেসবুক আইডিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম কাগজে লিখে তা পায়ের নিচে দিয়ে ছবি তুলে প্রচার করা হয়। এসব ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
ঈদ উপলক্ষে আনোয়ার তার রায়পুরের সোনাপুর এলাকার গ্রামের বাড়িতে আসেন। ৩০ মে রাতে ফেসবুকে প্রচারিত কুরুচিপূর্ণ ঘটনার কারণ জানতে চাইলে আনোয়ারসহ অভিযুক্তরা যুবদল নেতা রুহুল আমিনসহ সাক্ষীদের ওপর হামলা করেন। একপর্যায়ে বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। ওই রাতেই স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। পরদিন ৩১ মে দুপুরে রুহুল আমিন বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা ও দণ্ডবিধি আইনে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে আনোয়ারসহ তার তিন ভাইয়ের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার সময় আনোয়ারের ঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এতে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আনোয়ারকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অপর আসামিকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ওই নেতার নাম আনোয়ার হোসেন। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ও রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। মামলার অপর আসামি তার আপন ভাই এনসিপিকর্মী ইমাম হোসেন। এ ছাড়া মামলার বাদী রুহুল আমিন সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চরবগা গ্রামের শফিক আহম্মদের ছেলে।