সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায়, সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব তুহিন খান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত নতুন এই প্ল্যাটফর্মে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসুও ‘জনযাত্রা’র সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
উদ্যোক্তাদের দাবি, দেশে ভিন্ন ধারার ও বিকল্প রাজনৈতিক চর্চার সূচনা করাই এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য। গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের আদর্শে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্দেশ্যে প্রথমে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করবে ‘জনযাত্রা’।
এই উদ্যোগের পেছনে প্রগতিশীল শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা নেপথ্যে থেকে দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে। তবে সামনের সারির নেতৃত্বে থাকবেন মূলত তরুণরাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘমল্লার বসু বলেন, ‘নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ার প্রস্তুতি চলছিল। এখনই এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’
উদ্যোক্তারা জানান, নির্বাচনের আগে অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সক্রিয় থেকে নীতি সংলাপ, নাগরিকদের সংগঠিত করা, বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এটিকে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে গঠনতন্ত্র তৈরির কাজ চলছে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্তের পর দলটির অন্তত ১৬ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেন। তাদের কয়েকজন পর্যায়ক্রমে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
এই উদ্যোগে যুক্ত এক ছাত্রনেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্ল্যাটফর্মটির মূল দায়িত্বে থাকবেন তরুণরা। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও অভিজ্ঞ আন্দোলনকর্মীরা নেপথ্যে থেকে পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত সাবেক ছাত্রনেতা, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীরাও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে কেউ কেউ পরিচয় গোপন রেখে বা ছদ্মনামেও কাজ করবেন।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। একাধিক সভা ও সমাবেশের পর শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রস্তুতি প্রায় শেষ।
নতুন উদ্যোগ প্রসঙ্গে অনিক রায় বলেন, 'বিভিন্ন সময় ব্যক্তি উদ্যোগে আন্দোলনে যুক্ত মানুষ, ছাত্রসংগঠনের নেতা ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই প্ল্যাটফর্মটি সাজানো হচ্ছে। শুরুতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে, পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আরও অনেকে যুক্ত হবেন।'