বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দেশের সব পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্দেশে এক নোটিশ জারি করে সমিতি।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, 'কমিশন বৃদ্ধি, জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে এর আগে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। দাবি পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সেখানে দাবি মেনে নেওয়া হলে পুনরায় বিক্রি শুরু হবে, অন্যথায় বন্ধ থাকবে।'
এর আগে, বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয়।
সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে দেশে ২৭টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে রিফিল হচ্ছে, বাকি প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে। এতে এলপিজি নিয়ে দেশজুড়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
অন্যদিকে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, 'এলপিজি পরিবেশকরা কমিশনের লাইসেন্সধারী না হওয়ায় আইনগতভাবে তাদের দাবি সরাসরি বিবেচনার সুযোগ নেই। প্রস্তাব আসতে হবে লাইসেন্সধারী আমদানিকারকদের কাছ থেকে। তারা আবেদন করলে যাচাই-বাছাই ও গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
এ বিষয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, 'দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই। বাজারে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা মূলত কারসাজির ফল। বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কাজ করছে এবং বিভিন্ন জায়গায় জরিমানাও করা হচ্ছে।'
পরিবেশক সমিতির অভিযোগ, ভোক্তা অধিকার অভিযান ও প্রশাসনিক তৎপরতায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এতে অনেক পরিবেশক ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা দাবি জানান, পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে হবে এবং হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।