বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, 'গত দুই দিনের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল আসলে নরসিংদী অঞ্চলেই। এক সপ্তাহে আরও ২০ বার ভূমিকম্প হতে পারে। ভূমিকম্পের মাত্রাও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। এ কয়েক দিনের মধ্যে যদি ৫.৭ মাত্রার চেয়েও বড় কোনো ভূমিকম্প হয়, তাহলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভয়াবহ দুর্যোগ হতে পারে।'
সম্প্রতি হিমালয়ের নিচে টেকটোনিক প্লেট সরে যাওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পরই বাংলাদেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত, ইউরেশিয়া ও বার্মা, এই তিনটি বড় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত জটিল অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের একটি দল ইতোমধ্যে নরসিংদীর ঘোড়াশালে সৃষ্ট মাটির ফাটল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। সাবেক অধ্যাপক আ স ম ওবায়দুল্লাহ জানান, পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর ভূমিকম্পের ধরন ও গভীরতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অন্যদিকে, ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘বাংলাদেশে অসংখ্য ফল্ট রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে আর সমতল এলাকাতেও অসংখ্য ভূচ্যুতি রয়েছে। এগুলো তেমন মারাত্মক নয়। বাংলাদেশে সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত দুই প্লেটের সংযোগস্থল। এ অঞ্চলে গত ৮০০ থেকে হাজার বছরের মধ্যে জমে থাকা শক্তিটা বের হয়নি। এ কারণে অঞ্চলটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।'