বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ১৯৭১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যারা বাংলাদেশকে শাসন করেছে, আমরা দেখেছি তারা বিদেশি আধিপত্যের কাছে মাথা নত করে বাংলার মানুষের অধিকার বিকিয়ে দিয়েছে। এ দেশের মানুষ মর্যাদা নিয়ে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খেলাফত মজলিস আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভারতীয় সংবিধানের মূলনীতিগুলোকে বাংলাদেশের সংবিধানে স্থাপন করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অন্য রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার নানা ধরনের আয়োজন চালানো হয়েছে। শাসকের চেহারা পরিবর্তন হয়েছে, শাসক দলের প্রতীক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু বাংলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে বড় রাজনৈতিক দল লাগে না। অনেক রঙের বাংলাদেশ মানুষ দেখেছে। আমরা পণ করেছি, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ। আমাদের স্লোগান— ‘ধর্ম–বর্ণ–ভিন্নমত, সবার জন্য খেলাফত।’
তিনি আরও বলেন, কৃষ্ণনগর ইউপির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসাইন আশরাফী চ্যালেঞ্জ করেছেন যে তিনি এক টাকাও দুর্নীতি করেননি। যদি কেউ অভিযোগ করতে পারেন যে তিনি পরিষদ থেকে এক টাকার দুর্নীতি করেছেন, তাহলে তার মনোনয়ন দেওয়া হবে না এবং আমিও দলের নেতৃত্ব দেব না।
তিনি বলেন, আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কথা বলছি। ইনশাআল্লাহ, যদি এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চান, তবে আমার দেশের ১৮ কোটি মানুষ, ৩৬ কোটি মেহনতী হাত—এই দেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে উন্নয়নের রোল মডেল হতে পারে, যদি আমরা রাষ্ট্রকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারি।
নবীনগর উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফীর সভাপতিত্বে গণসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মহসিনুল হাসান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আবদুল আজিজ প্রমুখ।
সমাবেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনে আহমদ আলীর নাম ঘোষণা করেন মাওলানা মামুনুল হক।
সদ্য সংবাদ/ মমিনুল হক রুবেল