শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, 'একটি এআই-জেনারেটেড ও সম্পাদিত (এডিটেড) স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে যে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।'
তারা বলেন, 'একটি ভুয়া ফটোকার্ডকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে হত্যার হুমকি দেওয়া, তার আবাসিক কক্ষে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করা এবং পরবর্তীতে শাহবাগ থানায় ভুক্তভোগীর জিডিকে কেন্দ্র করে ‘মব’ সৃষ্টি করা—এসব কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বেআইনি ও নিন্দনীয়।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ স্বেচ্ছায় আইনি আশ্রয় নিতে শাহবাগ থানায় গেলে তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয় এবং তার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ না করে হয়রানি করা হয়, যা নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
এবি পার্টির নেতারা অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণে গেলে ঢাবি ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের ও এবিএম মোসাদ্দেক হামলার শিকার হন। থানার ভেতরে ‘মব’ তৈরি করে এই হামলা সংঘটিত হওয়া রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গুরুতর হুমকি বলে মন্তব্য করেন তারা। একইসঙ্গে অতীতেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে দাবি করেন তারা।
তারা আরও বলেন, 'ফ্যাক্ট-চেকিংয়ে সংশ্লিষ্ট ফটোকার্ডটি ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার পরও ভুক্তভোগীকে জিডি করতে বাধা দেওয়া এবং সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক।'
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, শাহবাগ থানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি গণমাধ্যমের সাংবাদিক হামলার শিকার হন। তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য। সমিতি এই ঘটনাকে ‘মব হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর জন্য ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
সমিতির তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হুমকির ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক সতর্ক করে বলেন, 'ছাত্ররাজনীতি যদি গুজবনির্ভর সহিংসতার পথে পরিচালিত হয়, তবে তা শুধু শিক্ষাঙ্গন নয়, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। গুজব, সহিংসতা ও মব সংস্কৃতি প্রশ্রয় পেলে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস করবে এবং সমাজে অস্থিতিশীলতা বাড়াবে।'
তারা আরও বলেন, 'রাষ্ট্র যদি এ ধরনের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে অগণতান্ত্রিক শক্তির পুনরুত্থানের পথ প্রশস্ত হবে।'
এবি পার্টির চার দফা দাবি:
- ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
- ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
- থানার ভেতরের হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
- সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।