কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের সময় ছাত্রদলের দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের চাপাছৌ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব ইউসুফ হোসেন আরিফ জিয়ার ছেলে ও ছাত্রদল কর্মী আরাফাত হোসেন বিজয় এবং অপর ছাত্রদল কর্মী মিথিল ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করছিলেন—এমন অভিযোগে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তাঁদের আটক করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে প্রশাসন পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুইজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করে ছেড়ে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের খাটোরা গ্রামে টাকা ও ভোটার স্লিপসহ দুই বিএনপি নেতাকে আটক করার অভিযোগ ওঠে। তারা হলেন—গুণবতী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও খাটোরা গ্রামের বাসিন্দা ফকির মেম্বার।
জামায়াত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ওই দুই ব্যক্তি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিতরণ করছিলেন। এ সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয় এবং তাদের কাছে ২০০ টাকা নোটের দুটি বান্ডেল পাওয়া যায়। উপজেলা জামায়াত ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. মনজুর আহম্মদ শাকি বলেন, ভবিষ্যতে অনিয়মে জড়াবেন না—এমন স্বীকারোক্তি দেওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন গুণবতী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা। সকালে তারা একটি চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে ধরে নিয়ে ভিডিও ধারণ করে প্রচার করা হচ্ছে। টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ সত্য নয়।