নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগ তুলে মধ্যরাতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল— “একটা একটা চাঁদাবাজ ধর, ধরে ধরে ধোলাই কর”, “১০১ হবে না, চাঁদাবাজের ঠিকানা”, “চাঁদাশক্তি, চাঁদাবল—নোবিপ্রবি ছাত্রদল”, “ছিঃ ছিঃ ছাত্রদল, লজ্জা লজ্জা”, “লন্ডনের কামলা, চাঁদাবাজ সামলা”, “হাওয়া ভবনের কামলা, চাঁদাবাজ সামলা”।
বিক্ষোভ সমাবেশে এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের আগে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ চাঁদাবাজি করত। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা ছাত্রদলের নামে একই ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ দেখতে পাচ্ছি। একটি ছাত্র সংগঠন চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিকেই যেন তাদের প্রধান অবলম্বন বানিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগে ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় বালু উত্তোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ার ঘটনায়ও একটি ছাত্র সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে। আমরা চাই, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে ক্যাম্পাসে একটি সুষ্ঠু শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।”
ওশানোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফী বলেন, “৫ আগস্টের পর আমাদের প্রাণের বিদ্যাপীঠে এক শ্রেণির চাঁদাবাজের আগমন ঘটেছে। তারা শুধু চাঁদাবাজ নয়, একই সঙ্গে টেন্ডারবাজ হিসেবেও পরিচিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে সক্রিয়ভাবে বিচরণ করছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “চাঁদাবাজরা হুমকি দিচ্ছে—১২ ফেব্রুয়ারির পর আমাদের দেখে নেবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। কোনোভাবেই এই ক্যাম্পাসকে চাঁদাবাজদের আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া যাবে না।”
প্রসঙ্গত, নোবিপ্রবিতে সড়ক সংস্কার ও পরিবহন শেড নির্মাণ সংক্রান্ত প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার দুটি প্রকল্পে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীকে হুমকি, হেনস্তা ও মানসিক চাপ দিয়ে বিল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং প্রকল্পের ম্যানেজারকে জিম্মি করে চাঁদা দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান ও সহসভাপতি আমিনুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে।