বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গ্রেপ্তার এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, থানায় হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। হামলায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
ওসি বলেন, থানায় ঢুকে এ ধরনের হামলার ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা হতবাক। তিনি বলেন, “থানায় ঢুকে এভাবে কেউ নির্যাতন করে, আমরা কার কাছে যাব। এই পোশাক রাখব না। পাবলিক দেখেছে, সাংবাদিক দেখেছে। একটা যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, একটা যদি ভুল তথ্য পায়, এই পোশাক খুলে ফেলব।”
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের বাধার মুখে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ ব্যাহত হয়। মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত পৌনে ৮টার দিকে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকির নামের এক যুবককে চুরি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মাদক মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ওইদিন রাত ৯টার দিকে থানা হাজতের ভেতরে লোহার শিকের সঙ্গে মাথা ঠুকে রিয়াজ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এরপর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে একদল গ্রামবাসী আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করে থানার বাইরে নিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিম গুরুতর আহত হন। তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংঘর্ষে কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন।
অন্যদিকে, সংঘর্ষে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগম (৪৭) ও চাচা কাঞ্চন ফকিরসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।