জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এখন নকআউট পর্বে কার্লো আনচেলত্তির দলের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে মঙ্গলবার (৩০ জুন) নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের ম্যাচের ফলাফলের ওপর। যে দল জিতবে, তাদের বিপক্ষেই শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে সেলেসাওরা।
কাগজে-কলমে নরওয়েকে কিছুটা এগিয়ে রাখা হলেও দুই দলের সামর্থ্য, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং খেলার ধরন বিবেচনায় ব্রাজিলের জন্য কোনো প্রতিপক্ষকেই সহজ বলা যাচ্ছে না।
দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ে ইতোমধ্যে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছে। গ্রুপ পর্বে ইরাককে ৪-১ এবং সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে তারা। শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে হারলেও ওই ম্যাচে বেশ কয়েকজন মূল খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেন প্রধান কোচ স্টলে সলবাক্কেন।
নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা আর্লিং হলান্ড। গ্রুপ পর্বেই চার গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। তার সঙ্গে মার্টিন ওডেগার্ড, আন্তোনিও নুসা ও আলেকজান্ডার সোরলোথ আক্রমণভাগে গতি ও বৈচিত্র্য এনে দিচ্ছেন। দ্রুত আক্রমণে যাওয়া, দীর্ঘ পাস এবং পাল্টা আক্রমণই দলটির প্রধান শক্তি।
অন্যদিকে তুলনামূলক কম আলোচিত দল হলেও চলতি বিশ্বকাপে গোছানো ফুটবল খেলছে আইভরি কোস্ট। গ্রুপ পর্বে ইকুয়েডরকে হারানোর পর জার্মানির বিপক্ষে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে তারা। পরে কুরাসাওকে হারিয়ে নিশ্চিত করে নকআউট পর্ব।
আফ্রিকার দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি রক্ষণভাগ। ওসমান দিয়োমান্দে, ইভান এনডিকা ও উইলফ্রিড সিঙ্গোকে নিয়ে গড়া তাদের প্রতিরক্ষা ভাঙা সহজ নয়। মাঝমাঠে ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে এবং আক্রমণে নিকোলাস পেপে ও সেবাস্তিয়ান হালারের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা সুযোগ পেলেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
পরিসংখ্যানও দুই দলের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গ্রুপ পর্বে নরওয়ে তিন ম্যাচে আট গোল করলেও সাত গোল হজম করেছে। অর্থাৎ আক্রমণে ধারালো হলেও রক্ষণে দুর্বলতা রয়েছে। বিপরীতে আইভরি কোস্ট তুলনামূলক কম গোল করলেও রক্ষণে ছিল অনেক বেশি সংগঠিত।
এ পর্যন্ত নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়নি। ফলে মঙ্গলবারের ম্যাচটি হবে দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ।
তবে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের অতীত রেকর্ড সুখকর নয়। চারবারের দেখায় একবারও জয় পায়নি সেলেসাওরা। দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে, বাকি দুটি জিতেছে নরওয়ে। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল ইউরোপের দলটি। বিপরীতে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বিশ্বকাপে দুইবার খেলেই জয় পেয়েছে ব্রাজিল।
কৌশলগত দিক থেকে বিবেচনা করলে আইভরি কোস্টকে প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক মনে হতে পারে ব্রাজিলের জন্য। কারণ, দলটি রক্ষণে শক্তিশালী হলেও নরওয়ের মতো ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে না।
অন্যদিকে নরওয়ের বিপক্ষে খেলতে হলে ব্রাজিলকে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে হলান্ডকে ঘিরে। তার শারীরিক সক্ষমতা, আকাশে দাপট এবং নিখুঁত গোল করার দক্ষতা যেকোনো সময় ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। পাশাপাশি ওডেগার্ডের সৃজনশীল পাসও ব্রাজিলের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
অবশ্য জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে ক্যাসেমিরো, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রুনো গিমারায়েস ও বদলি হিসেবে নেমে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির নেতৃত্বে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল, তাতে দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে।
সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের মধ্যকার ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে শেষ ষোলোর লড়াই তাদের জন্য কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যদি নরওয়ে হয়, তাহলে সেটি হতে পারে আনচেলত্তির দলের জন্য টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন নকআউট পরীক্ষাগুলোর একটি।