ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শতাধিক শিক্ষার্থী ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রদলে যোগদান করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতা ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে ও সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, শিক্ষার্থীরা এগিয়ে না এলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হতো না এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনও ঘটত না। ছাত্ররা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে নেতৃত্বে এগিয়ে এসেছিল। পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তি নেপথ্যে থেকে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করেছে। ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দরাও অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধরে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যে চেতনা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা আজ অনেকাংশে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবারও ফ্যাসিস্ট বাস্তবতা ফিরে আসছে। অতীতে ফ্যাসিস্টরা যে কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করতে হবে। কারণ এই অভ্যুত্থান অর্জন করা এবং জয়লাভ করা ছিল অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। বিপ্লবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রদলকে পুরোনো ধাঁচ থেকে বের করে সময়োপযোগী একটি নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের কথা বলছে, সে প্রসঙ্গে খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই ৩১ দফার সংস্কার প্রস্তাব আগেই উপস্থাপন করেছিলেন। এতে প্রমাণ হয় রাষ্ট্রগঠনে তার চিন্তাভাবনা সময়োপযোগী ও দূরদর্শী।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মাইনুল হোসেন চপলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজিদুর রহমান, সাবেক সহসভাপতি মোকাররম হোসেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অন্যতম সংগঠক মোহাইমিনুল আজবীন, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থী আশীষ ভৌমিক ও তন্নী আক্তার, সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহিম উদ্দিন এবং ছাত্র সংগঠক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।