কেন্দ্রীয় বিএনপির তিনজন সদস্য ১৯৯৬ সালে দলের মনোনয়ন প্রাপ্ত তকদির হোসেন জসিম, সায়েদুল হক সাঈদ, সালাউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ২০১৮ সালে বিএনপি মনোনয়ন প্রাপ্ত কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ সাধারণ সম্পাদক কেএম মামুনুর রশিদ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু এক মঞ্চে এসে ঘোষিত প্রার্থী এডভোকেট এমএ মান্নানকে পরিবর্তনের দাবিতে সভা সমাবেশও করেন।
চলমান পরিস্থিতিতে এসকল নেতাদের অনুসারীরা এডভোকেট এমএ মান্নান এর বিরুদ্ধে মশাল মিছিল ও ঝাড়ু মিছিল পর্যন্ত করেছে। এই নেতারা এডভোকেট এমএ মান্নানের বিরুদ্ধে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনের জনপ্রিয় নেতাদের বঞ্চিত করে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ তুলে আসছিলেন।
ইতোমধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে দুটি পক্ষই নিজেদের সক্ষমতা দেখতে আলাদা আলাদা শোডাউন করেন। একে অপরকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন সভা সমাবেশে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। এতে করে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়ে যায়।
গত, ৬ই ডিসেম্বর নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়া গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দানবীর নজরুল ইসলাম নজুর পরিচিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নুর। সেই সভাটি নবীনগরের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহত্তম জনসভায় রূপ নেয়।
নবীনগর উপজেলার তৃণমূল বিএনপিতে ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড পর্যন্ত কোন্দল গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজুর এই সমাবেশকে সফল করতে সহায়ক শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।সেই সমাবেশটির পর থেকেই নজরুল ইসলাম নজু নবীনগরের আনাচে কানাচে আলোচনার তুঙ্গে অবস্থান করছেন। আর্থিক ভাবে সচ্ছল এই ব্যবসায়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা চিকিৎসা স্কুল কলেজ মসজিদ মন্দির ঈদগাহ কবরস্থান উন্নয়নে ব্যাপক সহায়তা করায় নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার ঘোষণা দেওয়ায় একটা সার্বজনীন সাড়া পেয়ে যায়।
যদিও এই আসনে জামাত জোটের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে বিএনপির কোন্দল এই জোটের জন্য বিজয়ের পথকে সুগম করতে পারে বলে মনে করছেন দলটির একাধিক নেতা। তাই তারা পরিস্থিতির উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। বিএনপির এই অন্তর্দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকলে কৌশলে তারা বিজয় ছিনিয়ে নেবেন।যেটি তারা বিগত উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাওলানা মেহিদী হাসানকে বিজয়ী করে নিয়েছিলেন।
তাছাড়া, এই আসনে বিশাল একটা হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট,আওয়ামী লীগের ভোট ও জাতীয় পার্টির ভোট প্রার্থীদের জয় পরাজয়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় নেতাদের অবস্থানের উপর ফলাফল নির্ভর করতে পারে বলে ধারণা করছেন অভিজ্ঞ মহল। আর সেই ভোটের বড় অংশ পেয়ে যেতে পারে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু,কারণ তার ক্লিন ইমেজ আর অতীতে নবীনগরের বিভিন্ন এলাকায় আর্থিক সহায়তা তাকে সেই সুবিধা এনে দিতে পারে। সেই সাথে বিএনপির বিভক্তি সাধারণ ভোটারদের কাছে তাকে লুফে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে ক্রমাগত,যেহেতু ভিপি নুরের প্রতি বিএনপির একটা সুনজর রয়েছে।
তাই বিএনপির কোন্দল জামায়াতের ৮ দলীয় জোটের জন্য স্বস্তির জায়গা হলেও বিএনপির কোন্দল নিয়ন্ত্রণ করে জামায়াত জোটের আতংকের নাম গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু। বিএনপির বিভক্তি সহনশীলতায় এনে বিজয় নিশ্চিত করতে নজরুল ইসলাম হতে পারে বিএনপির শেষ ভরসা।
কারণ নজরুল ইসলাম নজুর দল গণ অধিকার পরিষদ ছাড়াও তার একটা নিজস্ব বলয় রয়েছে। তিনি প্রায় তিন হাজারের অধিক যুবককে সৌদি আরবে তার নিজের প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকরি করাচ্ছেন, যাদের অধিকাংশই নবীনগরের বাসিন্দা। দলের এই বাহিনী তাদের মালিকের জন্য বড় ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত।
বিএনপির এই দ্বিধা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে তাতে কেন্দ্রীয় নেতারা শেষমেশ হস্তক্ষেপ করলেও কতটা সুফল পাওয়া যাবে তা নিয়েও এলাকায় চলছে চুল ছেঁড়া বিশ্লেষণ। তাদের কেউ কেউ নজরুল ইসলাম নজু এমপি নির্বাচিত হোক শুধু এমনি প্রত্যাশা করে না তারা নিরবে নিভৃতে সহযোগিতা করতেও কার্পণ্য করবেন না বলে গুঞ্জনও রয়েছে। তারা দলের প্রার্থীকে যেমন মেনে নিতে পারছেন না তেমনি বিভেদ কাজে লাগিয়ে জামায়াত বিজয়ী হোক সেটাও চায় না। প্রয়োজনে তারা ট্রাকে তেল মবিল সরবরাহ করতে পারে।