শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ’র শফিকুল কবির মিলনায়তনে 'প্রগতিশীল প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি সমাজ' সংগঠন আয়োজিত ‘ভূমিকম্প: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে। বক্তব্যে বিশেষজ্ঞরা দেশের ভূমিকম্প প্রস্তুতির নানা সীমাবদ্ধতা ও করণীয় তুলে ধরেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রগতিশীল প্রকৌশলী পরিকল্পনাবিদ ও স্থাপত্য সমাজ সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মীর মোশাররফ হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন।
এতে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহদী আমেদ আনসারি, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ খন্দকার নিয়াজ রহমান, রুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বক্তারা বলেন, 'সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের ঘটনাগুলো জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্পসহ চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশ ও আশপাশের এলাকায় প্রায় শতাধিক ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২০টি ভূমিকম্প মানুষ অনুভব করেছে, যা ঝুঁকি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।'
তারা আরও বলেন, 'দেশে পর্যাপ্ত সিসমোগ্রাফ ও আধুনিক তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার অভাবে ভূমিকম্প গবেষণা ব্যাহত হচ্ছে। পূর্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলেও অর্থ ও জনবল সংকটে সেগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ফলে এখনো বিদেশি উৎসের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।'
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, 'নিরাপদ অবকাঠামো গড়তে পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, নির্মাণে লাইসেন্স ও সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা এবং দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।'
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, 'নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, নির্মাণ কাজে লাইসেন্স ও সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা এবং দুর্নীতি ও অনিয়ম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত উদ্ধার দল গঠন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।'
সেমিনারে বক্তারা জানান, ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে না দিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমেই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।