হতদরিদ্রদের জন্য ভিডব্লিউবি (ভিজিডি) সরকারি চাল বিতরণের সময় প্রকাশ্যে ক্রয় ও বিক্রয় করতে নিষেধ করায় এবং ভিডিও ধারণের চেষ্টা করায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দীপ্ত টেলিভিশন ও খবরের কাগজের সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে শাহেদ, আরিফ ও আশিক নামে একদল চাল সিন্ডিকেট সন্ত্রাসী।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে তাড়াশ উপজেলার মাগুরা বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটে। দুষ্কৃতকারীরা হলেন, উপজেলার দোবিলা গ্রামের মৃত খোকার ছেলে সাহেদ আলী, তার ছেলে আরিফুল এবং আরেক ছেলে আশিক। এ সময় তাদের হাতে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র দেখা যায়।
লাঞ্ছিত হওয়া সাংবাদিক হলেন সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য, দীপ্ত টেলিভিশন, খবরের কাগজ, দ্যা এশিয়ান এজের জেলা প্রতিনিধি এবং সিরাজগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দি ডেইলি স্কাইয়ের নির্বাহী সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম শিশির।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ৩০ কেজি ভিজিডি চাল কম দামে কিনছিলেন চালের ব্যবসায়ী সাহেদ। এ সময় সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম শিশির তাকে সরকারি চাল ক্রয় করতে নিষেধ করলে সাহেদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর তার ছেলে আরিফ, আশিকসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়, লাঞ্ছিত ও মারধর করে। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা সাংবাদিককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান এবং তাকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মাগুরা বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় সাহেদ, তার ছেলে আরিফ ও আশিকসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হচ্ছেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন। এক পর্যায়ে সাংবাদিককে বারান্দা থেকে ভিতরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব, তাড়াশ উপজেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও নেতৃবৃন্দ।
ঘটনার সময় সাংবাদিকদের কাছ থেকে একটি ক্যামেরা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম শিশির এ বিষয়ে তাড়াশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম শিশির বলেন, “সরকারি চাল ক্রয় ও বিক্রয় করতে নিষেধ করায় একজন সাংবাদিকের যদি এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এই সকল চাল সিন্ডিকেট সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আমি দোষীদের শাস্তি দাবি করছি। তাদের অচিরেই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”
এর আগে চালের ব্যবসায়ী সাহেদের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদে উপকারভোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহার, অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তিনি নিজেকে ওয়ার্ড বিএনপির বড় নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেড়ান।
এ বিষয়ে মাগুরা বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান ম্যাগনেট বলেন, “সাংবাদিকদের সাথে যে আচরণ ও বাজে ব্যবহার করা হয়েছে তা খুবই ন্যাক্কারজনক। এ বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”