দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রদবদল না হওয়া পর্যন্ত দেশটির দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রই নেবে।
ভেনেজুয়েলায় হামলা চালানো এবং দেশটির প্রেসিডেন্টকে ‘আটক’ করার পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য শান্তি চায়।
তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলায় দ্বিতীয় দফায় আরও বড় পরিসরে হামলার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো খুব শিগগিরই ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করবে।
অভিযানকে সফল উল্লেখ করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশ গত রাতে যা করেছে, তা মার্কিন বাহিনী ছাড়া আর কেউ করতে পারেনি।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, সফল অভিযানের পর মাদুরো ও তার স্ত্রীকে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
টানা কয়েক মাসের হুমকির পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে কারাকাসের আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণ, যুদ্ধবিমানের গর্জন এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
হামলার পরপরই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন।