স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে রাত ১টার দিকে ৫৩ বিজিবির জহুরপুর টেক বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ২৩/৭-এস এলাকার কাছ দিয়ে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল অবৈধভাবে গরু আনার উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ওই দলে শওকত আলীও ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তবে এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বিজিবির কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।
শনিবার (১৬ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে ৫৩ বিজিবির ফরিদপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পদ্মা নদী থেকে শওকত আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্বজনদের খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে রাত দেড়টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের চাচা আনারুল ইসলাম বলেন, 'জেলেরা লাশ দেখতে পেয়ে আমাদের খবর দেয়। পরে আমরা গিয়ে মরদেহ নিয়ে আসি। তবে সে গরু আনতে গিয়েছিল, নাকি মাছ ধরতে গিয়ে মারা গেছে, এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।'
৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শওকত আলী গত ১০ মে গরু আনতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।'
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, শনিবার রাতে পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পাওয়া যায়। তবে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি শিবগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ঠুঠাপাড়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পরিচালনা করছে।
গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এসআই জীবন জানান, রোববার দুপুর পর্যন্ত মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু হয়নি।