ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর বরাতে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি কৌশলগত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তবে হামলার ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার তখন একটি মার্কিন জ্বালানি পরিবাহী ট্যাংকার থেকে জ্বালানি গ্রহণ করছিল। সে সময়ই জাহাজটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। অভিযানে ইরানের তৈরি ‘কদর-৩৬০’ ও ‘তালাইয়েহ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ও জ্বালানি ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসনের জবাব। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে আত্মরক্ষার অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে এই হামলার দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।