বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু টেক্সটাইল ও পোশাকপণ্যের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। গত বছরের এপ্রিল থেকে প্রায় নয় মাস ধরে এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, এই সমঝোতা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং উভয় দেশের বাজারে পারস্পরিক প্রবেশাধিকার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যা পরবর্তীতে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু টেক্সটাইল ও পোশাকপণ্য শূন্য শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুবিধা পাবে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, শুল্কহার হ্রাসের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা অতিরিক্ত সুবিধা অর্জন করবেন এবং নির্দিষ্ট পোশাকপণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় চুক্তিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উভয় দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির পর চুক্তিটি কার্যকর হবে।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ব্রেন্ডান লিঞ্চ উপস্থিত ছিলেন।