শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শাফিয়া শরীফ বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
দণ্ডপ্রাপ্ত কনস্টেবল মুকুল চোকদার রাজৈর পৌর এলাকার মৃত বাবুল চোকদারের ছেলে।
মানববন্ধনে মুকুলের মা পিনজিরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমি আমার ছেলের মুক্তি চাই। এই ফাঁসি আমি মানি না। আমার স্বামী নেই, অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়ালেখা করিয়ে চাকরি দিয়েছি। আমি গরিব মানুষ, টাকা দিতে পারিনি বলেই আজ আমার ছেলের এই অবস্থা। যারা টাকা দিতে পেরেছে তারা জেলে গেছে, কেউ সাত বছরের সাজা পেয়েছে। আর আমার ছেলে টাকা দিতে পারেনি বলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।'
মুকুলের স্ত্রী সুমাইয়া বেগম বলেন, 'ঘটনার সময় সে শুধু সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। কোনো ভিডিও ফুটেজে তাকে অপরাধ করতে দেখা যায়নি। তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। এসপি, ডিসি কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনেক টাকা খেয়ে পার পেয়ে গেছে, তাদের বিচার হয়নি। আমার স্বামী একজন সাধারণ কনস্টেবল। সে একজন এতিম ছেলে। তার কোনো ভাই নেই, কোনো শক্তি নেই। এই নিরীহ মানুষটাকেই ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে। আমি এই রায় মানি না। সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার চাই।'
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে মামলাটির পুনঃতদন্ত ও রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানান এবং দোষীদের প্রকৃত পরিচয় বের করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।