আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় শেখ রেহানার বলয় কোণঠাসা

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩২
ক্ষমতাচ্যুতির পর দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তাদের দাবি, দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরে শেখ রেহানাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী বলয়ের বাইরে গিয়ে নতুন নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে ভাবছেন।

দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং জনঅসন্তোষের কারণগুলো নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করে। এ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোকে দলের সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানায়, শেখ রেহানার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা বর্তমানে চাপের মুখে রয়েছেন। দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাদের মধ্যে অনেককে সামনের সারির রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আগের মতোই ঘনিষ্ঠ থাকলেও দল পরিচালনা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শেখ রেহানার মতামতের প্রভাব আগের তুলনায় কমে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই শেখ রেহানা এবং তারিক আহমেদ সিদ্দিককে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে ওঠার আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল। দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নিয়োগে এই বলয়ের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। যদিও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা কখনো প্রকাশ্যে এসব অভিযোগ স্বীকার করেননি।

দলীয় সূত্রের অভিযোগ, দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে কিছু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি এই বলয়ের মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। বিভিন্ন নিয়োগ ও বদলিকে ঘিরে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও দলীয় মহলে আলোচিত ছিল বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।

এদিকে বিদেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। সূত্রগুলোর মতে, তিনি সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা, জনঅসন্তোষ এবং দলের পতনের কারণ নিয়ে আলোচনা করছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য ও কম বিতর্কিত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতে চাইছেন।

ইউরোপে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, শেখ হাসিনা এখন এমন ব্যক্তিদের সামনে আনতে আগ্রহী, যাদের ভাবমূর্তি তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন এবং যারা জনমনে গ্রহণযোগ্য। দুর্নীতি, বিতর্ক ও জনঅসন্তোষের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের থেকে তিনি দূরত্ব বজায় রাখতে চান বলেও দাবি করেন তিনি।

দলীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, শেখ হাসিনা বর্তমানে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থান করলেও দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন। বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

তবে দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, দুর্নীতি, অনিয়ম বা রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িত নেতাদের বিষয়ে নতুন করে মূল্যায়ন চলছে। যদিও এ ধরনের তথ্যকে নাছিম প্রত্যাখ্যান করে পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে অভিহিত করেছেন।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, যারা সংগঠন পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন, তাদের প্রতি শেখ হাসিনার আস্থা বাড়ছে। এ তালিকায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম বারবার আলোচনায় আসছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতেও নতুন নেতৃত্ব মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের দৃষ্টিতে আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে এই চারটি মহানগর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: দ্য টাইমস অব বাংলাদেশ

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. স্কুল কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ২৮ সদ্য. তেজগাঁও কলেজ মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ সদ্য. রাজধানীর চার এলাকায় ৮ ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. কুড়িগ্রামের ফের সার নিয়ে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তা সদ্য. শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করবে বাংলাদশে, প্রতিক্রিয়ায় যা বলল ভারত সদ্য. ক্ষমা না চাইলেও একাত্তরের অবস্থান মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী সদ্য. দেশে হাম উপসর্গে মৃত্যু ৯৫০ ছুঁই ছুঁই সদ্য. অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দুর্নীতি ও নোট বাণিজ্য বরদাশত হবে না: কাজল সদ্য. তারেক রহমানের হাতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয়: নাহিদ সদ্য. নভেম্বরে দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দ্য হিন্দু সদ্য. স্কুল কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ২৮ সদ্য. তেজগাঁও কলেজ মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ সদ্য. রাজধানীর চার এলাকায় ৮ ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. কুড়িগ্রামের ফের সার নিয়ে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তা সদ্য. শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করবে বাংলাদশে, প্রতিক্রিয়ায় যা বলল ভারত সদ্য. ক্ষমা না চাইলেও একাত্তরের অবস্থান মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী সদ্য. দেশে হাম উপসর্গে মৃত্যু ৯৫০ ছুঁই ছুঁই সদ্য. অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দুর্নীতি ও নোট বাণিজ্য বরদাশত হবে না: কাজল সদ্য. তারেক রহমানের হাতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয়: নাহিদ সদ্য. নভেম্বরে দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দ্য হিন্দু