যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ভিসা বন্ডের শর্ত থেকে অব্যাহতি পেতে বাংলাদেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, আরও বহু দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অভিবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে কিছু দেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং সেই তালিকায় বাংলাদেশ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে বিষয়টি দুঃখজনক এবং বাংলাদেশের জন্য কষ্টকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, অনিয়মিত অভিবাসনের সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি মূলত নীতিগত একটি ইস্যু।
অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তৌহিদ হোসেন বলেন, সরকার শুরু থেকেই অনিয়মিত অভিবাসনের বিরোধিতা করে আসছে এবং এই ধরনের অভিবাসন বন্ধ করাই একমাত্র টেকসই সমাধান।
তিনি আরও বলেন, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মানুষের মৃত্যু কিংবা উদ্ধার হওয়ার খবর প্রায়ই সামনে আসে। এসব মানুষ ভুক্তভোগী এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি থাকা স্বাভাবিক। তবে একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ৩৮টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসার আবেদন করার সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত জমা দিতে হবে।
গত বছরের আগস্টে প্রথমে ছয়টি দেশকে এই ভিসা বন্ড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে আরও সাতটি দেশ যুক্ত হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশ এই তালিকায় যোগ করা হয়েছে।
ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর জন্য এই বন্ডের শর্ত আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে।