আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নিজের করা ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচন যে সহজ হবে না, তা তিনি আগেই বলেছিলেন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই বক্তব্যের সত্যতা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে।
রাজধানীর খামারবাড়ির বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনা, বিশেষ করে চট্টগ্রামে বিএনপির এক প্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণের বিষয়টি তার আশঙ্কাকেই প্রমাণ করছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে যে ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে দেশ ধ্বংসের দিকে চলে যাবে। অতীতে বহুবার দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও কখনো শহীদ জিয়ার, কখনো দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সেই সংকট থেকে দেশকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে জানা যাচ্ছে, এসব ষড়যন্ত্র আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ভয় পাওয়ার সুযোগ নেই, বরং মানুষকে সাহস দিতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হবে এবং যত বেশি ঐক্য গড়ে তোলা যাবে, ষড়যন্ত্রকারীরা ততই পিছু হটতে বাধ্য হবে।
চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দুই প্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে কেউ কেউ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমান খাল খনন, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকার সমস্যা, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বায়ু ও পানি দূষণ রোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির প্রণীত পরিকল্পনা ও সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত প্রাপ্তির হিসাব বাদ দিয়ে দেশ ও জাতির জন্য কতটুকু করা গেল, সেটিই এখন প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত। আজ যদি কেউ দেশ ও জাতির জন্য কাজ করেন, তাহলে ভবিষ্যতে তার সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্ম একটি ভালো দেশ পাবে। দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকেই লক্ষ্য হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ জন্য সবাইকে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ঘরে বসে থাকার সময় শেষ। এই লড়াইয়ে জিততে হলে সবচেয়ে বড় শক্তি বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।