পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আকলিমা বেগম তার শিশু কন্যাকে চিকিৎসার কথা বলে দেবিদ্বার উপজেলা সদরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে ৫০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করেন। এরপর বুড়িচং উপজেলার সাবের বাজার এলাকায় পথেই অচেতন হয়ে ‘সন্তান অপহরণ’ দেখানোর চেষ্টা করেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে শিশুটিকে দত্তক নেওয়া দম্পতি আবু সাঈদ ও তার স্ত্রী পুলিশের মাধ্যমে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফেরত দেন।
আকলিমা বেগম তার ভুল স্বীকার করে বলেন, 'হাসপাতালের এক নার্স আমার মেয়ের শারীরিক সমস্যার কথা বলে আমাকে নিরুৎসাহিত করেন এবং বিক্রির পরামর্শ দেন। তবে বিক্রির টাকা আমি তখনও পাইনি।'
শিশুটিকে দত্তক নেওয়া আবু সাঈদ বলেন, 'ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পর সংবাদে শিশু অপহরণ দেখার পর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে সত্যতা বুঝে পুলিশের সাহায্যে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফেরত দিয়েছি।'
শিশুর বাবা কামাল হোসেন জানান, তিনি দিনমজুরি করে সংসার চালান এবং সন্তানের লালন-পালনে কোনো অভাব ছিল না। স্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি অজানা ছিলেন।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, 'মা স্বেচ্ছায় সন্তান বিক্রি করে অপহরণের নাটক সাজিয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য যাচাই করে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'