রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পূর্ববর্তী শাসনামলের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান—বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন—কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। একইসঙ্গে জনপ্রশাসন ছিল দুর্বল ও বিভক্ত, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল অবনতিশীল।'
তিনি আরও বলেন, 'শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও ছিল ভঙ্গুর অবস্থা। দেশকে আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত করা হয়েছিল, বেড়েছে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব, সৃষ্টি হয়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান।'
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অস্থিরতাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, 'যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব থেকে কোনো দেশই মুক্ত নয়। তবে জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।'
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। দল-মত নির্বিশেষে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার বিষয়টিকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ডিসি সম্মেলনের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করার দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।