সোমবার (১১ মে) গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে জানায়, হামলাগুলো ইসরায়েলি সেনাসমাবেশ, মেরকাভা ট্যাংক, ডি-নাইন বুলডোজার এবং সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত সামরিক কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। খিয়াম, দেইর সেরিয়ান, তায়র হারফা, বায়দাদ, রাশাফ ও নাকোরাসহ দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়।
হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখায় পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
গোষ্ঠীটি আরও জানায়, হামলাগুলোতে ড্রোন, রকেট, কামানের গোলা এবং গাইডেড মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকটি হামলায় ‘সুনিশ্চিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত’ হানার দাবিও করেছে তারা।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, লেবানন থেকে ড্রোন অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় রোববার গভীর রাতে ইসরায়েলের আপার গ্যালিলি অঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।
এ ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের বিমান বাহিনী লেবানন থেকে আসা একটি ‘সন্দেহজনক আকাশযান’ ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর এ তৎপরতাকে যুদ্ধবিরতি সমঝোতার আরেকটি লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এবং পরে এর মেয়াদ মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়ানো হলেও সীমান্ত পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। প্রতিদিনই লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী এবং পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনাও ঘটছে।
গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৬৯৩ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সংঘাতের কারণে দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এদিকে বর্তমানে লেবাননের সীমান্ত এলাকায় তথাকথিত ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয় বজায় রেখেছে ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটনে শান্তি আলোচনার আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক মহল আশা করছে, এই আলোচনা চলমান সংঘাত নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি