জামালপুরে ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১০০ জন শিক্ষার্থী ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন।
শনিবার সকালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষার্থীরা সবাই সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।
পরীক্ষার্থী তিলা জামালি বলেন, “পরীক্ষা শেষ করার পর আমি দেখতে পাই, প্রশ্নপত্রের ওপরে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী লেখা রয়েছে। অর্থাৎ এই প্রশ্ন আমাদের জন্য ছিল না। পরে অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কলেজ থেকে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। আমি দুই বছর ধরে এই তিন ঘণ্টার পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। তাদের একটি ভুলের কারণে আমার এ প্লাস কেটে যাবে না—এর নিশ্চয়তা কী?
আরেক পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, “সারা দেশে সবাই একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে, আর আমরা ১০০ জন অন্য প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিলাম। এখন পরীক্ষা কেমন হয়েছে, সেটি আর মূল বিষয় নয়। আমরা পাস করব নাকি ফেল করব, সেটি নিয়েই সন্দেহে আছি। পাস করলেও এ প্লাস আসবে কি না, সেটিও জানি না।
এ বিষয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলম মীর বলেন, “আমাদের কাছে যে প্রশ্নপত্র আসে, সেগুলো ২০টি করে একটি বান্ডেলে থাকে। ৪২০২ নম্বর কক্ষের জন্য যে পাঁচটি বান্ডেল খোলা হয়, সেসবের প্রতিটির ওপর ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র লেখা ছিল। কিন্তু ভেতরে ছিল ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র। পরীক্ষা শুরুর আগে বিষয়টি দেখার সুযোগ না থাকায় শিক্ষকরা বান্ডেল খুলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন। পরীক্ষা শেষে জানা যায়, যাঁরা অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাদের জন্যই এই প্রশ্নপত্র ছিল।
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আমরা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করি। বোর্ড থেকে বলা হয়েছে, ওই ১০০ পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠাতে। তাদের উত্তরপত্র নমনীয়ভাবে এবং ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে।”
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রটিতে বাংলা দ্বিতীয় পত্রে অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দিয়েছেন ৬৯ জন। এছাড়া সব মিলিয়ে এ কেন্দ্রে নয় শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
ফারিয়াজ ফাহিম /সদ্য সংবাদ