নারায়ণগঞ্জে কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন বিতরণ করতে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী প্রমিত রায় (২১) নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তার সঙ্গে থাকা অপর শিক্ষার্থী আল ইমরানও (২১) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে প্রমিত রায় দাবি করেন, তারা দুজন অনার্স প্রথম বর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বিতরণের কাজ করেন। গত ৮ আগস্ট দুপুর পৌনে ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের কলেজ রোডে তোলারাম কলেজের প্রধান ফটকের সামনে একটি কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন বিতরণ করছিলেন তারা।
এ সময় আবু সাঈদ (২৪), সাব্বির (২৭) ও অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন তাদের জোর করে সেখান থেকে ধরে নিয়ে কলেজ রোডের মসজিদ গলিতে অবস্থিত প্যারাগন কোচিং সেন্টারের অফিসে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে কোনো কারণ না জানিয়ে তাদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় এসে বিজ্ঞাপন বিতরণের কারণেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। মারধরের ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়। পরে তাদের অফিসের ভেতরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হলে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে অভিযুক্তরা পরবর্তীতে তোলারাম কলেজের সামনে দেখা গেলে ক্ষতি করার হুমকি দেন। এতে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রমিত রায়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু সাঈদ সদ্য সংবাদকে বলেন,তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) সাজেদুর রহমান জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সদ্য সংবাদ/এসআর