মঙ্গলবার (১২ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, 'পরীক্ষার মাত্র ৪২ ঘণ্টা আগে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নপত্র বিক্রির ঘটনা সামনে এসেছে। এতে প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর কঠোর পরিশ্রম ও আস্থার ওপর বড় আঘাত এসেছে।'
এদিকে রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক বিশাল বনসাল জানিয়েছেন, ৪১০টি প্রশ্নের একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র (গেজ পেপার) তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সেটের প্রায় ১২০টি প্রশ্ন মূল পরীক্ষার রসায়ন অংশের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।
তদন্তে আরও দেখা হচ্ছে, পরীক্ষার এক মাস আগেই এই প্রশ্নপত্র বাজারে ছড়িয়ে পড়েছিল কি না এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না।
রাহুল গান্ধী এ ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করে বলেন, 'গরিব পরিবারের শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ধ্বংসের ক্ষেত্রে এই সরকার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
অন্যদিকে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এনটিএ আরও জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র পরিবহনে জিপিএস-ট্র্যাকড যানবাহন, পরীক্ষাকেন্দ্রে বায়োমেট্রিক যাচাই, সিসিটিভি নজরদারি এবং ৫জি জ্যামার ব্যবহার করা হয়েছিল। অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য তারা পরীক্ষার চার দিন পর, অর্থাৎ ৭ মে জানতে পারে এবং দ্রুত তা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোকে জানায়।
রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার প্রকাশ করে বলেন, 'এই অন্যায্য ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। পরিবর্তন আসবেই।'
তবে ১০ বছরে ৮৯ বার প্রশ্ন ফাঁসের দাবির পক্ষে প্রকাশ্য কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি বলে জানা গেছে।
এদিকে রাজস্থান পুলিশের তদন্ত ও এনটিএ-র নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাল্টা দাবির মধ্যে দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।