কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর ব্যক্তি সৈনিক শাহীন আলমের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তনু হত্যার সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, শাহীন বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তাঁর বর্তমান বয়স ৩৭ বছর। তিনি এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন অথবা তাঁকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা আদালত সূত্র জানায়, সম্প্রতি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম কুমিল্লার আদালতে সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন। একই আবেদনে তনু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সেনাবাহিনীর কাছে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সোমবার ছিল মামলাটির ধার্য তারিখ।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল। তবে আমরা আজ কুমিল্লায় যাইনি। আদালত থেকে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেটি এখনো জানতে পারিনি। আদালতের আদেশের কপি হাতে পেলে এ বিষয়ে কথা বলতে পারব।’
সম্প্রতি তনু হত্যা মামলার নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে আরও একজনের রক্ত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা। এ নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে চারজনের নমুনা মিলেছে। আগের তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য সামনে এলেও নতুন করে শনাক্ত ব্যক্তির রক্তের নমুনাও তনুর পোশাকে পাওয়া গেছে।
এদিকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমানকে সোমবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এদিন আদালতে হাজির করা হলেও হাফিজুর রহমানের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
সূত্র: প্রথম আলো