বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে থাকা মুক্তা বেগম তার তিন সন্তান—আরজিনি (৬), আছিয়া (৩) ও সাত মাস বয়সী খাদিজাকে নিয়ে চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। পরে পরিষদের দোতলার বারান্দায় শিশুদের রেখে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। শিশুদের কান্নাকাটি দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের নির্দেশে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। প্রশাসনের তৎপরতায় মুক্তা বেগমকে খুঁজে বের করে সন্তানদের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটানো হয়।
এ সময় স্থানীয় গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া তার সেলাই মেশিনটি ফেরত দেওয়া হয়, যা ছিল তার একমাত্র আয়ের উৎস। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে নগদ ৩ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জুর উদ্যোগে ৩০ কেজি চাল, ৪ কেজি ডাল, ৪ লিটার তেল ও ২ কেজি চিনি প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, মুক্তা বেগমের স্বামী আমান উল্লাহ প্রায় এক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকেই তিন সন্তানকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। জীবন চালানোর একমাত্র উপায় ছিল একটি সেলাই মেশিন। কিন্তু এক হাজার টাকা দেনার দায়ে সেটিও নিয়ে নেওয়া হলে তিনি আরও অসহায় হয়ে পড়েন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু জানান, বিষয়টি জানার পরই সেলাই মেশিনটি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এর আগেই মুক্তা সন্তানদের রেখে পরিষদ থেকে চলে যান। পরে প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে সন্তানদের সঙ্গে মিলিত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও মুক্তা বেগম ও তার পরিবারের পাশে থাকার জন্য সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।