সংসদে পাস হলো অর্থ বিল

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩৩
সংসদ সদস্যদের সমালোচনা, প্রশ্ন এবং একাধিক সংশোধনের পর জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি ‘অর্থ বিল, ২০২৬’।

সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি চূড়ান্তভাবে পাসের জন্য উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।

এর আগে বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব এবং এর সাধারণ নীতি নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশনের শুরুতে অর্থমন্ত্রী সরকারের আর্থিক প্রস্তাব বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি আইন সংশোধনের লক্ষ্যে ‘অর্থ বিল, ২০২৬’ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

বিলটি উত্থাপনের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ কয়েকজন সদস্য বড় বাজেট ঘাটতি, কর ও মূল্য সংযোজন করের চাপ, ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের ব্যবস্থাপনা এবং প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ঋণসংক্রান্ত আশ্বাসের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তারা বিলটি আরও যাচাইয়ের জন্য জনমত গ্রহণের প্রস্তাব দেন।

সংসদ সদস্যদের আলোচনা ও মতামতের পর একাধিক সংশোধনী যুক্ত করে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস করা হয়।

বিল পাসের পর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি দুর্বল অর্থনীতি ও ভঙ্গুর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। তার মতে, কার্যকর নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনপ্রশাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সব ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, সরকার ধীরে ধীরে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বেসরকারি উদ্যোগ, নতুন উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানই ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হবে। উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

বাজেট নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার জন্য সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের মতামত জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। একই সঙ্গে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সমালোচনাকেও তিনি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তার ভাষ্য, প্রস্তাবিত বাজেট শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা।

মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, দুর্নীতি, অর্থপাচার, বিনিময় হারসংক্রান্ত অনিয়ম এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বর্তমান সরকার একটি সংকটাপন্ন অর্থনীতি পেয়েছে। তবে কৃষি, শিল্প, সেবা খাত এবং প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা ও সরকারের নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সরকার করের হার বাড়াবে না; বরং করের আওতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে করনীতি ও কর প্রশাসনকে পৃথক করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় ঐতিহ্যবাহী বাজার ও ছোট মুদি দোকানকে প্রস্তাবিত একক হারের মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থার বাইরে রাখা হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে চলতি অর্থবছরে প্রথমবারের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর আদায় ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আগামী অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হবে। নতুন বাজেটে মোট ব্যয়ের ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পূর্ববর্তী সরকারের ঋণ গ্রহণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ঋণের কারণে দেশের ঋণঝুঁকি বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৯ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। এই ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ বর্তমান অর্থব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

ঋণনির্ভরতা কমাতে আগামী অর্থবছরে ব্যাংকঋণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা, বন্ড ও ইকুইটি অর্থায়ন সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে হংকং, লন্ডন ও নিউইয়র্কে বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আর্থিক অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশ-বিদেশে মোট ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বা স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১৩টি দেশে ২৩টি পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। মালয়েশিয়া ও হংকংয়ের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চুক্তিও চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ১৫টির বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টির বেশি গোপনীয়তা চুক্তি করেছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. অবশেষে জারি হলো নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন সদ্য. আজ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সদ্য. আজই হতে পারে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, নতুন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল সদ্য. অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, রোববার কুবিতে প্রথম জানাজা সদ্য. ঢাকার তিন স্থানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন সদ্য. অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কুবিতে আগামীকাল সাধারণ শোক, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছয় মাসের ‘সাফল্য’ তুলে ধরে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট সদ্য. অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে পাঁচ বাহিনী সদ্য. লং মার্চ থেকে ফেরার পথে সিরাজগঞ্জে জামায়াতের সাবেক ইউনিয়ন আমিরকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগে বিএনপি সদ্য. শিক্ষিকার ছেলের হত্যাকাণ্ডে কুবি ছাত্রদলের শোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সদ্য. অবশেষে জারি হলো নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন সদ্য. আজ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সদ্য. আজই হতে পারে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, নতুন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল সদ্য. অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, রোববার কুবিতে প্রথম জানাজা সদ্য. ঢাকার তিন স্থানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন সদ্য. অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কুবিতে আগামীকাল সাধারণ শোক, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছয় মাসের ‘সাফল্য’ তুলে ধরে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট সদ্য. অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে পাঁচ বাহিনী সদ্য. লং মার্চ থেকে ফেরার পথে সিরাজগঞ্জে জামায়াতের সাবেক ইউনিয়ন আমিরকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগে বিএনপি সদ্য. শিক্ষিকার ছেলের হত্যাকাণ্ডে কুবি ছাত্রদলের শোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি