দলীয় সূত্রের খবর, শতাধিক নেত্রী মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। কেউ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, কেউ ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে বিএনপি হাইকমান্ড থেকে।
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। সাধারণ আসনে যে দল কতটি আসনে জয়ী হয়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বিতরণ করা হয়। এবারের নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়ী হওয়ায় ৫০টির মধ্যে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) জয়ী হওয়ায় একটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিএনপির সূত্র জানায়, এবার সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন নেত্রীরা। তাদের মধ্যে কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশই মনোনয়ন পাননি। এ কারণে এখন তারা সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার প্রতিযোগিতায় সক্রিয়।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য নেত্রীরা
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেত্রী রয়েছেন। এতে আছেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান ও সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী। সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন, কনক চাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। এছাড়া ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, নেত্রী অপর্ণা রায়, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, মহিলা দলনেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি ও রাবেয়া আলমের নামও শোনা যাচ্ছে।
ঝালকাঠি, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের জেলা নেত্রীদের নামও আলোচনায়। ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি, শাহিনুর সাগর এবং সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বলা হচ্ছে।
চট্টগ্রামে সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চসিকের সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ এবং ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীনের নাম আলোচনায় আছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে দলটি ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী শিগগিরই মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেবেন। তবে এবারে তরুণ নেত্রীদের মূল্যায়ন করার সম্ভাবনা বেশি বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।