বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, 'দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, প্রবাসীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে তাঁবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে।'
রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যরা হট্টগোল করেন। পরে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে তারা ওয়াকআউট করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জানাই অভিনন্দন।'
রাষ্ট্রপতি বলেন, 'অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই নিরলসভাবে কাজ করেছে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।'
তিনি আরও বলেন, 'বর্তমান সংসদে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমমনা দলগুলো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। এ উপলক্ষে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে অভিনন্দন। পাশাপাশি নবনির্বাচিত সব সংসদ সদস্যকেও শুভেচ্ছা জানাই।'
ভাষণে রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী লাখো শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানও স্মরণ করেন।
এ সময় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।'
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, '২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতনের শিকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানাই।'
রাষ্ট্রপতি বলেন, 'গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চলমান রয়েছে। গুরুতর আহত ১৩৭ জন জুলাই যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১২ হাজার ৪৩ জনকে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২০২৪ সালের জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা সহায়তা ও ভাতা অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা, উন্নয়ন এবং দিবস উদযাপনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সরকার বাস্তবায়ন করছে।