ভোরের আলো ফুটতেই অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। শুরুতে ড্রোন উড়িয়ে এলাকার বিভিন্ন স্পট চিহ্নিত করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনীর এপিসি ট্যাংক, পুলিশের জলকামান, সাঁজোয়া যান, ডগ স্কোয়াডসহ ভারি অস্ত্রে সজ্জিত একাধিক যানবাহন অভিযান এলাকায় প্রবেশ করে। অভিযানে অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধ ও সন্ত্রাসমুক্ত করতেই এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে সেনাবাহিনী, র্যাব-৭, র্যাব-১১, র্যাব-১৫, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, রেঞ্জের বিভিন্ন জেলার পুলিশ সদস্য এবং বিজিবি অংশ নিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রুকন ও ইয়াসিন বাহিনীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে আসছে। এসব নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
গত ১৯ জানুয়ারি ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিনকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা র্যাব সদস্যদের ঘিরে মারধর করে এবং চারজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায়। এতে একজন র্যাব কর্মকর্তা নিহত হন।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। গত চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনও পাহাড় কেটে চলছে প্লট বাণিজ্য। এই দখল ও বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী, যারা সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারা দিয়ে থাকে।
বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়িতে অন্তত দেড় লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে। তাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে এখানে বসতি গড়েছেন।